জুলাই থেকে শুরু হবে ডাক বিভাগের শুদ্ধি অভিযান

৪ জুন, ২০২৪ ১৫:৪৫  

সরকারি কোষাগারের হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, জমি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। প্রতিবছর লোকসান দিচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতেতে ডাক বিভাগের বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ডাক বিভাগকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এই খাতটিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে দিতে চান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে লোকসান কমাতে ডাক বিভাগের মালিকানায় থাকা গাড়ি ও জমি বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে আয়োজিত ‘ডাক বিভাগের ই-কমার্স সেবা সম্প্রসারণ ও চিলার চেম্বার ফাংশনাল করা এবং ক্রস বর্ডার ই-কমার্স সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায়’ এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গাড়ি পড়ে থাকার কারণ জানতে চান ডাক বিভাগের পরিচালক আবু তালেবের কাছে। কিন্তু ওই কর্মকর্তা সদুত্তর দিতে না পারায় ডিজিসহ তাকে মিটিং থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সব গাড়ি ও সার্ভিস পয়েন্ট ছাড়াও প্রয়োজনে ডাক বিভাগের সব জায়গাও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হবে। চলতি জুনের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হবে।

তিনি বলেন, তথ্যের হিসাব দিতে না পারলে মিটিং থেকে বের হয়ে গিয়ে নিয়ে আসেন। মিটিং চলাকালীন আগামী ১ ঘণ্টার মধ্যে যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক বিভাগের মোট ৪৬২টি গাড়ি আছে। এর মধ্যে ১৩৫টি অচল। এসব গাড়ি সাত দিনের মধ্যে ঠিক করে কাজে লাগাতে না পারলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। ডাক বিভাগের জমিগুলোও আমরা প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে দেব। তারা লভ্যাংশের অংশ আমাদের পরিশোধ করবে।’

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনায় ডাক বিভাগের কোটি কোটি টাকার সার্ভিস ডেলিভারি গাড়ি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কাজে লাগানো যায়নি স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট, এমনকি সারা দেশে থাকা ডাক বিভাগের মূল্যবান জমিও। এই পরিস্থিতিতে ডাক বিভাগকে বাঁচাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বসে বসে বেতন নেবেন তা হবে না। ৩০ জুনের মধ্যে ঠিক হয়ে যান। নয়তো ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’

মতবিনিময় সভায় ডাক বিভাগ, ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ লজিস্টিকস খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট মানুষের বাড়ি বাড়ি ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে আমি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেও এ বিষয়ে বলব।

শুধু সেবা বেসরকারিকরণ নয়; শুদ্ধি অভিযান চলবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। আসছে বাজেটে ডাক বিভাগের জন্য কোনো অর্থও চাইবেন না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে ডাক বিভাগ। জুলাই থেকে শুরু হবে অ্যাকশন।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদার, মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস লা্ইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মো: মহিউদ্দিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্মসচিব সাইদা আফরোজ, কুরিয়ার সার্ভিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাফিজুর রহমান, ই-ক্যাব পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ তমাল, বাংলাদেশ অনবোর্ড কুরিয়ার সংগঠনের সভাপতি এম আকতারুজ্জান এবং ই-কুরিয়ার, ফসল, রকমারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।